শেয়ার কারসাজি (Stock Market Manipulation) বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে করা হয়, যার উদ্দেশ্য হল শেয়ার মূল্যে কৃত্রিম পরিবর্তন ঘটিয়ে অবৈধভাবে লাভ করা। নিচে কিছু সাধারণ শেয়ার কারসাজির পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:
১. পাম্প অ্যান্ড ডাম্প (Pump and Dump)
এই পদ্ধতিতে কারসাজিকারীরা প্রথমে কম মূল্যের শেয়ারগুলি প্রচুর পরিমাণে কিনে নেয়। তারপর বিভিন্ন মাধ্যম (যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম, ইমেইল ইত্যাদি) ব্যবহার করে শেয়ারের মূল্য সম্পর্কে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটির দাম বাড়তে দেখে কিনতে শুরু করে, ফলে শেয়ারটির মূল্য আরও বেড়ে যায়। এরপর কারসাজিকারীরা উচ্চ মূল্যে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেয়, যার ফলে শেয়ারের দাম হঠাৎ করে পড়ে যায় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. ইনসাইডার ট্রেডিং (Insider Trading)
এই পদ্ধতিতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (যেমন: মুনাফা বা ক্ষতি সম্পর্কিত তথ্য, কোম্পানির এক্সপ্যানশন প্ল্যান ইত্যাদি) অবৈধভাবে ব্যবহার করে শেয়ার কেনা বা বেচা করা হয়। এই তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে না থাকায় তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হন।
৩. চক্রান্তমূলক লেনদেন (Collusion)
এই পদ্ধতিতে কারসাজিকারীরা দলবদ্ধভাবে কাজ করে। তারা পরিকল্পনা করে শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ায় বা কমায়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু নির্দিষ্ট শেয়ার একে অপরের মধ্যে বারবার কেনা-বেচা করে শেয়ারের চাহিদা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো বা কমানো হয়।
৪. র্যাম্পিং (Ramping)
এই পদ্ধতিতে কারসাজিকারীরা প্রচুর পরিমাণে শেয়ার কিনে নেয় এবং বাজারে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, যাতে শেয়ারের মূল্য বাড়ে। এরপর তারা উচ্চ মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে দেয়।
৫. বিড-অফার স্প্রেড কারসাজি (Bid-Offer Spread Manipulation)
এই পদ্ধতিতে কারসাজিকারীরা শেয়ারের বিড (কেনার প্রস্তাব) এবং অফার (বিক্রির প্রস্তাব) মূল্যে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন ঘটায়, যাতে শেয়ারের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়।
৬. ফ্রন্ট রানিং (Front Running)
এই পদ্ধতিতে ব্রোকার বা ডিলাররা তাদের ক্লায়েন্টদের অর্ডারগুলি কার্যকর করার আগে নিজেদের জন্য লেনদেন করে, যাতে তারা নিজেদের জন্য লাভবান হতে পারে।
৭. স্ক্যাল্পিং (Scalping)
এই পদ্ধতিতে বাজারের মেজর মুভমেন্টগুলির আগে শেয়ার কেনা বা বেচা করা হয়, যা বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
উপসংহার
শেয়ার কারসাজি একটি অবৈধ এবং অনৈতিক কাজ, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস করে এবং শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের কারসাজি রোধ করতে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো (যেমন: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) বিভিন্ন নীতিমালা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। বিনিয়োগকারীদের উচিত সতর্ক থাকা এবং যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করা, যাতে কারসাজির শিকার না হন।

0 মন্তব্যসমূহ