বিশৃঙ্খলা কোন প্রতিষ্ঠানের জন্যই সুখকর কিছু নয় এবং এটা অনভিপ্রেত। তবুও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কম বেশী শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা রয়েছে। একজন ব্যবস্থাপককে কী কী ধরনের শৃঙ্খলা জনিত সমস্যা তার প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান এবং কী কারনে শৃংখলাজনিত সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, তা জানা আবশ্যক। শৃংখলাজনিত সমস্যার উদ্ভব কেন হয়েছে তা পুংখানুপুংখভাবে বিশ্লেষণ করলে হয়তো ডজনখানেক সমস্যা চিহ্নিত করা যাবে। তবে বিশৃঙ্খলাজনিত সমস্যার মূল কারণ সমূহ নিচে আলোচনা করা হলো-
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দূর্ব্যবহার
উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে সকলেই ভালো ব্যবহার আশা করেন। কারণ ভালো ব্যবহার একজন কর্মীকে ভালো কাজে উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করেন তাহলে কর্মীর মধ্যে ক্রোধ বা রাগের সঞ্চার হতে পারে। ফলে একজন কর্মীর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতা দেখা দেয়। আর নিয়ম ভাঙ্গার এ প্রবণতা থেকেই প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়।
চাকুরী জনিত সমস্যা
চাকুরীতে যোগদানকালীন একজন কর্মীর স্বাভাবিক আশা থাকে ন্যায্য বেতন ও মজুরী পাওয়ার, পদোন্নতি পাওয়ার এবং কাজের সুন্দর পরিবেশ পাওয়ার। যখন সে তার কাজের ন্যায্য বেতন পায় না, কাজের সুন্দর পরিবেশ পায় না এবং কর্ম দক্ষতা অনুযায়ী পদোন্নতি পায়না, বরং এসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে কোন নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না, তখন তার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এতে করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে বাধ্য হয়।
চাপা ক্ষোভ
একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। এই সমস্ত সমস্যার অধিকাংশই তাদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। প্রায়ঃশই দেখা যায়, কর্মীরা তাদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাচ্ছেন, কিন্তু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের প্রতিকার বা সহানুভূতি তাদেও প্রতি জানাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে কর্মীদের মনে এক ধরনের চাপা ক্ষোভের জন্ম হয় এবং তারা বিশৃঙ্খল আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
ব্যবস্থাপকের স্বেচ্ছাচারিতা
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকের নিকট হতে কর্মীরা যুক্তিসঙ্গত আচরণ আশা করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপক স্বেচ্ছাচারী আচরণ প্রদর্শন করেন এবং সঠিক ও সাধারণ নিয়ম কানুন অনুসরণ করেন না। ফলে কর্মীরা তিক্ত বিরক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ হয়।
ট্রেড ইউনিয়নের প্ররোচনা
যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংঘ আছে, সে ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন অনেক সময় শ্রমিকদেরকে বিশৃঙ্খল আচরণে প্ররোচিত করে। এই প্ররোচনার কারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হতে পারে আবার ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও হতে পারে।
আইন-কানুন স¤পর্কে অজ্ঞতা
অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সঙ্গে ব্যবস্থাপনার যোগাযোগের পরিমাণ সীমিত। এর ফলে ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত অনেক নিয়মকানুন এবং চাওয়া পাওয়া স¤পর্কে কর্মীরা অজ্ঞ থাকে। ফলে কোন কাজ করলে নিয়ম শৃঙ্খলা ভাঙ্গা হবে তা তারা জানতে পারে না এবং কর্মীরা অজ্ঞতার জন্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত অনেক কাজ করে ফেলে।

0 মন্তব্যসমূহ