ব্যাংকের নিরীক্ষা কার্যক্রম হল একটি রুটিন পদ্ধতি বা কাজ যা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকলাপ, নিয়ন্ত্রণ, রেকর্ড এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া যাতে ব্যাংক নীতিমালা এবং আইনসম্মতভাবে, সঠিকভাবে, বৈধভাবে, নিরাপদে এবং দক্ষতার সাথে তার কার্যাদি সম্পাদন কাজ করছে কিনা তার যাচাই করে।
একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই নিয়মিত নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো উচিত। যদিও আমাদের দেশের অধিকাংশ ব্রাঞ্চ বা ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা তাদের ব্রাঞ্চ বা ডিপার্টমেন্ট নিরীক্ষার আওতায় আসুক বা থাকুক তা তারা চায় না। তাদের অফিসে নিরীক্ষা টীম আসুক সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মীরা নিরোৎসাহিত বোধ করেন। অধিকাংশ ব্যাংক কর্মকর্তারাই তাদের অতীত কার্যকলাপ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে, কিংবা কার্যকলাপে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হতে পারে, কার্যকলাপের কারনে অধিকতর জবাবদিহিতার সৃষ্টি হতে পারে বিবেচনায় নিরীক্ষা কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে যেতে চান।
কিন্তু কর্মকর্তা/ কর্মচারীদেরকে সবসময় নিরীক্ষা টীম এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমকে স্বাগতম জানানো উচিত। কেননা, নিরীক্ষা এবং নিরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল/ প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাকে নয়, বরং ব্যাংক ব্যবস্থাপনাসহ এর শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা/ কর্মচারী, ঋণদাতা, ঋণগ্রহীতা এবং এর গ্রাহকদেরকেও রক্ষা করে।
আসুন, জেনে নেয়া যাক একটি ব্যাংক নিরীক্ষা কেন প্রয়োজন বা কী উদ্দেশ্যে ব্যাংক নিরীক্ষা করা হয়। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ বর্ণনা করা হলঃ-
১. অডিট ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপর একটি নৈতিক নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষক স্থাপন করে যাতে কর্মকর্তারা কোন অনিয়ম না করার বিষয়ে অধিকতর সচেতন হয়। এটি কর্মীদেরকে আরও সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে বাধ্য করে।
২. নিরীক্ষা প্রায়শই অথবা কদাচিৎ সংঘটিত ত্রুটি এবং জালিয়াতি সনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৩. আর্থিক লেনদেন ও ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়াতে কোন দলিলাদির ঘাটতি থাকলে তা প্রাথমিক অবস্থায় নিরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং ফলে ঋণটি খেলাপী কিংবা খারাপ দিকে মোড় নেয়ার আগেই ঘাটতি কাগজাদি সংগ্রহ/ তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়।
৪. নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংক তার নিজস্ব নীতি অনুসরণ করছে এবং/ অথবা আইনি এবং সর্বোত্তম-অভ্যাস মান মেনে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত হওয় যায়।
৫. জাল জালিয়াতি ঠেকাতে নিরাপত্তা/ সাইবার নিরাপত্তা যথাযথ আছে কিনা তা যাচাই/ জানা সম্ভব হয়।
৬. ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে ঝুকি ব্যবস্থাপনা নীতিসহ অন্যান্য নীতি ও পদ্ধতির পর্যালোচনা করা সহজ হয়।
৭. ব্যাংকে/ ব্রাঞ্চে মানি লন্ডারিং, জালিয়াতি, যে কোন ধরনের আইন লঙ্ঘন বা অন্য কোনো অসঙ্গতি সংঘটিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
৮. তারল্য এবং আর্থিক প্রবাহ যথাযথ আছে কিনা তা যাচাই এবং এতদসংক্রান্ত নীতিতে কোন সংশোধন প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান।
৯. নিরীক্ষা ব্যাংকের হিসাবের বইয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ এবং যাচাইকরণে সহায়তা করে।
১০. নিরীক্ষা একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করে তুলে।
১১. নিরীক্ষা টীম বা নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সূচারু ও সুন্দর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে।
১২. নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা নিরীক্ষার মতামত মোতাবেক একটি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়।
যদিও ব্যাংকিং নিরীক্ষা নিরীক্ষক এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের চাপ সৃষ্টি করে, তবু ব্যাংকের স্বার্থে অডিটিং সফ্টওয়্যার এবং এপস ব্যবহারের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রমকে আরও সুগম ও সহজ করা যেতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ