Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফারড রেট) কী?(What is Libor (London Interbank Offered Rate)?)

 লন্ডনের এক ব্যাংক আরেক ব্যাংককে যে সুদহারে ঋণ দেয়, সেটাই হচ্ছে লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফারড রেট)। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় আকারের ঋণ দেওয়া- নেওয়ার ক্ষেত্রে লাইবর প্রথা অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এটি বন্ধকিসহ অন্যান্য ঋণের সুদের হারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বিশ্বের প্রায় সব দেশ ১৯৭০ সাল থেকে লাইবর প্রথা অনুসরণ করে, অর্থাৎ এটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া–নেওয়া করে আসছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বাংলাদেশও দীর্ঘ মেয়াদে লাইবরযুক্ত ঋণ নিয়ে রেখেছে। বিদ্যমান নিয়মে, স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নে ৬ মাসভিত্তিক লাইবরের সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশ মার্কআপ যুক্ত করে বার্ষিক সুদহার নির্ধারিত হয়।  

২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সেই দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কারসাজির মাধ্যমে লাইবর কমাতে বারবার চাপ দেয়। এই ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ফলে ২০১২ সালে চাকরি চলে যায় যুক্তরাজ্যের বার্কলেজ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বব ডায়মন্ডের। এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী লাইবর কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত। 


২০১২ সালের লাইবর কেলেঙ্কারির পর থেকেই লাইবর থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলতে থাকে। একপর্যায়ে ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফসিএ লাইবর প্রথা বাতিল ঘোষণা করে। অপরদিকে, লাইবরের বিকল্প কী হবে- এ চিন্তা মাথায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ও নিউইয়র্ক ফেডখ্যাত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক যৌথভাবে বিশ্বখ্যাত বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ২০১৪ সালে গঠন করে অল্টারনেট রেফারেন্স রেটস কমিটি (এআরআরসি)। এআরআরসি সিদ্ধান্ত নেয় যে লাইবরের একটি ভালো বিকল্প হতে পারে সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট (সোফর)। এটি হতে হবে মার্কিন ডলারভিত্তিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে। ফোরামটি ২০১৮ সালে এর কার্যক্রম বাড়ায় এবং সোফর কার্যকরে দৃঢ় হয় ২০২১ সালে এসে। ইতোমধ্যে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই নিজস্ব একটি সুদহারের মাপকাঠি বা বেঞ্চমার্ক সুদ ঘোষণা করেছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ