অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কী পরিমাণ অর্থ প্রকল্পে প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় অর্থের কী পরিমাণ অর্থ অভ্যন্তরীণভাবে ও কী পরিমান অর্থ বাহ্যিকভাবে আসবে বা সংস্থান হবে সে সম্পর্কে ভালোভাবে না বুঝেই একজন ঋণগ্রহীতা ঋণের জন্য আবেদন করেন। আবার, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ঋণগ্রহীতা জেনে বুঝেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঋণের জন্য আবেদন করেন। দুক্ষেত্রেই একজন ব্যাংকারকে অত্যন্ত চৌকুস ভূমিকা নিয়ে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়।
উদাহরণস্বরুপ, একটি অর্ধ-নির্মিত একটি প্রকল্প কখনও আয় উৎপাদন করতে পারে না বরং এটি লোকসান এর কারণ হয়ে দাড়াবে একসময়। অতএব ঋণের অর্থের সঠিক পরিমান নির্ধারন করতে ব্যাংকের উচিত ঋণগ্রহীতাকে সাহায্য করা। ঋণ যদি কম দেয়া হয় তবে প্রকল্প অর্ধ নির্মিত অবস্থায় পতিত হবে, কোন উৎপাদন করতে পারবেনা। ফলে প্রকল্প ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে। আবার, অধিক ঋণ বিতরণ করা হলে অধিক লাভের আশায় ঋণগ্রহীতা ঋণের অর্থ প্রকল্প ব্যতীত অন্য কাজে ব্যয় করবে এবং সেখান থেকে লাভ হিসেবে রিটার্ন আসা অর্থ পুনরায় লাভের আশায় পুনঃবিনিয়োগ হতে থাকবে। ফলে ঋণের কিস্তি সঠিক সময়ে পরিশোধ হবে না। আবার এখানে এ ব্যবসায় কখনো লসের সম্মুখীন হলে প্রকল্পসহ পুরো ব্যবসাই বসে যাবে। ব্যাংকের সুদ পাওয়াতো দুরের কথা, আসল অর্থই আটকে যাবে।
তবে, ঋণের অর্থের পরিমান ঋণগ্রহীতার ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতার উপর নির্ভর করে বাড়ানো যেতে পারে। ঋণগ্রহীতার নগদপ্রবাহ যদি প্রচুর পরিমানে হয় তবে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পূর্বেই পরিশোধ করার সম্ভাবনা থাকে। অতএব, ঋণের অর্থের আবশ্যক পরিমান কার্যত নির্ভর করে প্রাথমিক নগদ সল্পতা এবং ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহের নকশার উপর।
0 মন্তব্যসমূহ