Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ব্যাংকিং চাকরির চ্যালেঞ্জ, যা প্রতিনিয়ত একজন ব্যাংকার মোকাবেলা করে (The challenges of a banking job, which banker constantly faces)

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ব্যাংকিং সেক্টরের চাকরি একটি সফল পেশা হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের চাকরির বাজারে চাকরি প্রার্থীদের নিকট এ সেক্টর লোভনীয় সেক্টরে পরিণত হয়েছে। কারন, ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পদে লোভনীয় বেতন-ভাতা ও সুবিধাদিতে প্রচুর জনবল নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু, বিশাল সুবিধা এবং বেতন-ভাতার দিকে তাকালে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার বাইরে থেকে আকর্ষণীয় বলে মনে হলেও ব্যাংকিং চাকরিতে প্রচুর চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত একজন ব্যাংকার মোকাবেলা করে থাকে। আসুন জেনে নেয়া যাক কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ পেশায়- 

ভুলের জন্য কোনো ক্ষমা বা করুণা নেই: 

ব্যাংকের চাকরিতে ভুলের কোন ক্ষমা নেই। যে কোন ছোটখাট একটি ভুলের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা কিংবা ব্যাংক বড় অংকের জরিমানা বা ক্ষতিপুরনের সন্মুখীন হতে পারে। কিন্তু, ব্যাংক কখনোই তার কোন কর্মকর্তার ভুলের দায়ভার নেয়না। ফলে একটি ভুলের দায়ভার চুড়ান্তভাবেই কর্মকর্তার ঘাড়ে এসে পড়ে। এতে আর্থিক জরিমানা এমনকি চাকরি থেকে ডিসমিসাল হতে পারেন একজন কর্মকর্তা। তাই কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।


একঘেয়ে এবং ক্লান্তিকর কর্মঘণ্টা: 

ব্যাংকের চাকরিতে খুব ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। কারণ তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরণের লোকের সাথে একই ধরনের কাজ বা লেনদেন করতে হয়। আর প্রতিটি গ্রাহকের সাথেই সে কাজটা করতে হয় হাসিমুখে। একজন কর্মকর্তাও মনের ভেতর যতই ব্যথা বেদনা থাকুকনা কেন, তাতে ব্যাংকের কিছু যায় আসে না। ব্যাংকের নিকট গ্রাহকের প্রয়োজনটাই আগে। এটা ব্যাংকের দোষ নয়, এটা কাজের ধরণ এবং পেশার বৈশিষ্ট্য। এতে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা তার কাজে একঘেয়েমী কিংবা ক্লান্তি অনুভব করাটা স্বাভাবিক। 

চাকরির শুরুতে অনগ্রসর এলাকায় পোস্টিং

কিছু টেকনিক্যাল পোস্ট ছাড়া ব্যাংকের প্রায় সকল পদের চাকরির প্রথম দিকে গ্রামীণ এলাকা বা অনগ্রসর এলাকায় চাকরি করতে হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকতো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা নিয়োগ পত্রে এ বিষয়টি সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর এবং পোস্টিং ব্যাংকিং চাকরির ক্ষেত্রে এমনই আরেকটি নেতিবাচক দিক।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও মূল্যায়নঃ

ব্যাংকের চাকরিতে একটি কমন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে হেড অফিসের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। আর এ অর্জন দিয়েই একজন ব্যাংক কর্মকর্তার মূল্যায়ন হয়ে থাকে। আপনি অফিসের ভেতর যতই কাজ করেন না কেন, যত ঘন্টাই কাজ করেন না কেন, আপনার বাৎসরিক মূল্যায়নটা কিন্তু আপনি লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছেন তার ভিত্তিতেই হবে। 

প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করাঃ

সব চাকরি একরকম নয়। একমাত্র ব্যাংকের চাকরিতেই প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করতে হয়। কোন কাজ বাকি রেখে কিংবা পেন্ডিং রেখে বাসায় ফেরার সুযোগ ব্যাংকের চাকরিতে নেই। তাছাড়া, কোন কাজ কোনদিন শেষ না করে বাসায় ফিরলে পরের দিন কাজের লোড আরো বেড়ে যায়। ফলে একজন ব্যাংকারকে সবসময় কাজ সচেতন হতে হয়, সময়ের কাজ সময়ে করার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়।

লেখকঃ রিপন আবু হাসনাত, একজন ব্যাংকার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ