Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন-১৮৮১ অনুযায়ী চেকের বিধান কী?

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন মোতাবেক অঙ্গীকারপত্র, বিনিময়পত্র এবং চেক হস্তান্তরযোগ্য দলিল (negotiable instruments) হিসেবে বিবেচিত। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন- ১৮৮১ সর্বমোট ১৭টি অধ্যায় এবং ১৩৯টি ধারা নিয়ে ১৮৮১ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রণীত হয়। সে সময় থেকে দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রায় ২০ বারের অধিক এ আইনটি সংশোধন করা হয়। শুধু ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এ আইনে ৯টি সংশোধনী আনা হয়। মূল ১৩৮ ও ১৩৯ ধারা বাতিল করে ১৩৮-এর স্থলে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়। বিশেষত চেক প্রত্যাখ্যান বা cheque dishonour-এর ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান এবং আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে বর্ণিত বিধান যেমন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তেমনি একপক্ষে আস্থা ও অপরপক্ষে আইন মান্য করার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে।


হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন- ১৮৮১ এর ধারা-৬ মোতাবেক কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের ওপরে লেখা এবং চাওয়ামাত্র বাহককে পরিশোধযোগ্য দলিলই চেক, যা আলোচ্য আইনের ৩১ ধারা মোতাবেক চেকদাতার দায়। এ আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, চুক্তি আইন অনুযায়ী যে ব্যক্তি চুক্তি করার বা সম্পাদনের উপযুক্ত সে ব্যক্তিই অঙ্গীকারপত্র, বিনিময় দলিল এবং চেক সম্পাদন, লিখন ও স্বীকৃতিদান করার যোগ্য। 

১৯৯৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১৩৮ ও ১৩৯ ধারার উল্লিখিত প্রভিশন বাতিল করে যে নতুন বিধান আনয়ন করা হয়, তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ : 
ধারা : ১৩৮(১) : কোনো ব্যক্তি তার ব্যাংকের হিসাবে অপর কোনো ব্যক্তিকে চেক দিলেন; কিন্তু তাতে চেকে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা স্থিতি (balance) না থাকলে অর্থাৎ পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে ব্যাংক কর্তৃক চেকটি ফেরত দেয়া হলে ওই চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা dishonoured বলে বিবেচিত হবে। চেকদাতার এ কাজ ১৩৮ ধারানুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য চেকদাতা এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা চেকে লিখিত পরিমাণ টাকার তিনগুণ অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। তবে বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই নিম্নবর্ণিত শর্ত পূরণ করা আবশ্যকঃ

(ক) চেক ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপস্থাপন (present) করতে হবে; 

(খ) হিসাবে চেকটি সমন্বয় করার মতো পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে, চেকদাতাকে, ব্যাংক ৩০ দিনের মধ্যে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার (makes a demand for the payment) জন্য নোটিশ দেবে; 

(গ) ওই নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতা টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হতে হবে। 

ধারা ১৩৮(২): যে ক্ষেত্রে উপধারা (১) এর অধীন কোনো জরিমানা প্রযোজ্য হয় বা আদায় করা হয়, সে ক্ষেত্রে চেকে বর্ণিত টাকা এবং জরিমানার টাকাসহ সমুদয় অর্থ চেকদাতা বা ধারককে পরিশোধ করতে হবে বা জমা দিতে হবে। 

১৩৮(৩): উপরিউক্ত (১) ও (২) উপধারায় যা-ই বর্ণিত হোক না কেন, দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে চেকদাতার কোনো দাবি প্রতিষ্ঠা এবং আদায় করার অধিকার যথারীতি থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ