একটি দেশে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ কারেন্সি, চাহিদা আমানত, মেয়াদি আমানত ও বন্ধক থাকে তার সমষ্টিকে বলা হয় অর্থের যোগান। অর্থের যোগান বিভিন্ন উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়, সেগুলোকে বলা হয় অর্থের যোগদানের নির্ধারক। নিম্নে অর্থের যোগানের নির্ধারকসমূহ আলোচনা করা হলো।
১। কাগজি ও ধাতব মুদ্রা :
কাগজি ও ধাতব মুদ্রার পরিমাণ বাড়লে অর্থের যোগান বাড়ে। আবার কাগজি ও ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কমলে অর্থের যোগান কমে।
২। মেয়াদি আমানত :
মেয়াদি আমানত বাড়লে চাহিদা আমানত কমে এবং অর্থের যোগানও কমে। আবার মেয়াদি আমানত কমলে চাহিদা আমানত বাড়ে এবং অর্থের যোগানও কমে।
৩। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ :
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লে অর্থের যোগান বাড়ে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমলে অর্থের যোগান কমে।
৪। রিজার্ভ অনুপাত :
বাণিজ্যিক ব্যাংকের রিজার্ভ অনুপাত বাড়লে বা কমলে অর্থের যোগান যথাক্রমে কমে বা বাড়ে।
৫। বৈদেশিক ঋণ :
বৈদেশিক ঋণের নীতি বৃদ্ধি বা হ্রাস করলে দেশে অর্থের যোগান বৃদ্ধি এবং হ্রাস পায়।
৬। ঋণনীতি :
সরকার ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে সম্প্রসারণমূলক ঋণনীতি গ্রহণ করলে বাজারে অর্থের যোগান বাড়ে। আবার সংকোচনমূলক ঋণনীতি গ্রহণ করলে অর্থের যোগান কমে।
৭। ঘাটতি ব্যয় নীতি :
অর্থনীতিতে সরকার ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে, বিশেষ করে ঘাটতি ব্যয় নীতি অনুসরণ করলে অর্থের যোগান বাড়ে। আবার সরকার ব্যয়ের পরিমাণ হ্রাস করলে অর্থের যোগান কমে।
উপরিউক্ত উপাদানগুলোর অনুকূল পরিবর্তনে অর্থের যোগান বাড়ে এবং প্রতিকূল পরিবর্তন হলে অর্থের যোগান কমে।
0 মন্তব্যসমূহ