চেক প্রত্যাখ্যান বা চেকের অমর্যাদাকরণ কী?
চেকে কোন প্রকার ত্রুটি না থাকলে ব্যাংক চেকের টাকা দিতে বাধ্য। এটাকে চেকের মর্যাদাকরণ বা যড়হড়ৎ করা বলা হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক চেকের টাকা দিতে অস্বীকার করে থাকে, এটাকেই চেকের অমর্যাদাকরণ বা ফরংযড়হড়ৎ করা বলা হয়। চেকের ফরংযড়হড়ৎ অবশ্যই আইনসঙ্গত হতে হবে। একটি চেকের যে সকল শর্ত উপস্থিত থাকলে চেকের টাকা ব্যাংক দিতে বাধ্য, সে শর্তগুলো থাকার পরও চেকের টাকা প্রদান না করলে তা বেআইনী হবে। বৈধ কারণে ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের চেকের টাকা প্রদানে অস্বীকৃতিকে চেকের প্রত্যাখান বা অমর্যাদাকরণ বলা হয়।
চেক অমর্যাদাকরণ-এর কারণগুলো কী?
চেক অমর্যাদাকরণ-এর কারণগুলো নিম্নরূপ ঃ
১. আদেষ্টার পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংকে জমা না থাকলে NSF (No sufficient fund) লিখে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।
২. চেক প্রস্তুতকারকের স্বাক্ষর না থাকলে অথবা স্বাক্ষর থাকলে তা ব্যাংকে রক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সাথে পুরোপুরি না মিললে চেক প্রত্যাখাত হয়।
৩. হিসাব নম্বর না থাকলে বা হিসাব নম্বর ভুল থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।
৪. তারিখ না থাকলে বা ছয় মাসের বেশী হয়ে গেলে বা অগ্রিম তারিখ হলে চেকের টাকা প্রদান করা যায় না।
৫. চেকে কথায় ও অংকে টাকার পরিমাণে গড়মিল থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।
৬. হুকুম চেকে ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলে বা যে নাম উল্লেখ আছে তার সাথে চেকের উপস্থাপক ব্যক্তি এক না হলে চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়।
৭. চেকে কোন প্রকার কাটাকাটি বা ঘষামাঝা হলে চেকের টাকা পরিশোধ করা হয় না।
৮. চেকে ওভার রাইটিং থাকলে চেক প্রত্যাখান করা হয়।
৯. চেকের আদেষ্টার মৃত্যু হলে, দেউলিয়া ঘোষিত হলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদেষ্টা পাগল হলে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।
১০. আমানতকারীর বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।
১২. হিসাব কোন কারণে বন্ধ থাকলে চেকের টাকা পরিশোধ করা যায় না।
১৩. চেক ছেড়া বা অস্পষ্ট হলে ব্যাংক চেক প্রত্যাখান করে।
১৪. কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক চেকদাতার অফিসিয়াল সিল না থাকলে চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।
0 মন্তব্যসমূহ