Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ক্রিপ্টোকারেন্সি কী?

 ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রা। যার কোন বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে। এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সহজ ভাষায়, ক্রিপ্টোকারেন্সী হলো ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটোকল সমির্থত সাংকেতিক মুদ্রা বা ডিজিটাল কারেন্সী। এর লেনদেনের জন্যে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ে না। 


বিটকয়েন প্রথম ক্রিপ্টো কারেন্সি হলেও এটার তত্ত্ব ৯০ দশক থেকে গণিতজ্ঞদের জানা ছিল। তবে ২০০৮ এর আর্থিক মন্দার ফলে সাতোশি নাকামোতো (এটা একটা ছদ্মনাম, কেউ জানে না ইনি কে) বুঝতে পারেন যে মূদ্রা ব‍্যবস্থাকে সরকার এবং শক্তিশালী ব্যক্তি বা কর্পোরেশনের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এটার সঙ্গে সাতোশি ব্যাংক ব্যবস্থা তুলে দিতে চেয়েছিলেন। তার মতে ব্যাংক একটা দালাল যে আমাদের টাকা কেবল সুরক্ষিত রাখে এবং এর মাধ্যমে সব কেনাবেচা হয়ে থাকে। সাতোশি এমন একটা মূদ্রার কথা ভাবলেন যা সুরক্ষিত এবং এই মধ‍্যবর্তী দালাল বা ব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি জিনিস বেচা কেনা করতে পারবে। এই জন্য ৩ জানুয়ারী ২০০৯ সাতোশি বিটকয়েনের Genesis block (প্রথম ব্লক) এর সুচনা করেন।

যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন সম্পন্ন করতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পড়ে না এবং এর লেনদেনের গতিবিধি কোনভাবেই অনুসরণ করা যায় না, তাই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৈধ পণ্য লেনদেন ছাড়াও মাদক চোরাচালান এবং অর্থপাচার কাজেও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু এর মূল্য নির্ধারণ করার জন্য কোন অথোরিটি নেই, কোন সরকার নেই এবং কোন ব্যাংক নেই, তাই এর মূল্য উঠানামা করতে থাকে। যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিজিটাল কারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দর খুব দ্রুত অনেক বেশী ওঠানামা করে, মাঝেমাঝেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠে এবং ব্যবসা বাণিজ্যে এর ব্যবহার বিশ্ব্যাপী সীমিত এবং অনেক দেশেই নিষিদ্ধ, তাই এ ক্রিপ্টোকারেন্সির সমালোচনা বিশ্বব্যাপী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ