Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণার বিপক্ষে ব্যাংকের সতর্কতা বা করণীয় কী? (What is the bank's warning or action against check fraud and deception?)

 প্রস্তুতকৃত চেকে অবৈধভাবে কোনরূপ পরিবর্তন করে অথবা আমনতকারীর স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে চেক উপস্থাপনের মাধ্যমে টাকা তোলাকে জালিয়াতি বলে। এ ধরনের জালিয়াতির জন্য বাংলাদেশে ব্যাংকিং আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

কোন আমানতকারীর হিসাবে যে পরিমাণ টাকা আছে তা থেকে বেশী অংকের টাকা চেকে লিখা, ভুল হিসাব নম্বর লিখা, একই ব্যাংকের অন্য শাখার চেক উপস্থাপন করা, এক হিসাবের চেক অন্য হিসাবের জন্য জমা করা, যথাযথ হস্তান্তর ব্যতিরিকে চেক জমা দেয়া প্রভৃতি পন্থা ইচ্ছাকৃত ভাবে অবলম্বন করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর চেষ্টা করাকে চেকের প্রতারণা বলা হয়।


মোটকথা, কোন অবৈধ পন্থা অবলম্বন করার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে যে কেউ টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করলে তাকে চেকের প্রতারণা ও জালিয়াতি বলা হয়।

চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণার বিপক্ষে ব্যাংকের সতর্কতা বা করণীয়সমূহ-

চেক জালিয়াতি অনেক সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। চেকের জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আসুন, বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করি:

১. ব্যাংক ও শাখা ঃ কোন চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে প্রথমেই দেখতে হবে উক্ত চেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কিনা।

২. স্বাক্ষর পরীক্ষা ঃ জমাকৃত চেকটির নির্দিষ্ট জায়গায় চেকের আদেষ্টার স্বাক্ষর আছে কিনা ও উক্ত স্বাক্ষর তার ব্যাংকে জমাকৃত নমুনা স্বাক্ষরের সাথে হুবহু মিল আছে কিনা তা দেখতে হবে।

৩. চেকের তারিখ ঃ মেয়াদ উত্তীর্ণ চেক বা অগ্রিম চেকের টাকা পরিশোধ করা যাবে না। এমনকি চেকে তারিখ কাটাকাটি থাকলে সেক্ষেত্রে আদেষ্টার নমুনা স্বাক্ষর ব্যতীত টাকা প্রদান করা যাবে না।

৪. চেকের ক্রমিক নম্বরঃ চেক বইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর থাকে, যা উক্ত গ্রাহকের লেজার বইয়ে লিপিবদ্ধ করা থাকে। চেকের টাকা পরিশোধ করার পূর্বে দেখতে হবে যে উক্ত চেকের নম্বর তার নামে ইস্যুকৃত সিরিয়াল নম্বরের সাথে মিলে কিনা।

৫. অর্থের পরিমাণ ঃ চেকে উল্লিখিত অংকে ও কথায় টাকার পরিমাণ একই কিনা না হলে চেক প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

৬. চেকের পরিবর্তন ঃ চেকে কোন ধরনের পরিবর্তন, যেমন তারিখ পরিবর্তন, টাকার অংক পরিবর্তন ইত্যাদি আছে কিনা তা দেখতে হবে। আদেষ্টার ব্যাংকে রক্ষিত নমুনা স্বাক্ষর চেকে আছে কিনা তা পরীক্ষা করা অপরিহার্য।

৭. ছেড়া চেক ঃ চেক ছেড়া বা মোচড়ানো হলে ব্যাংক চেকটি প্রত্যাখান করবে।

৮. চুরিকরা চেকঃ কোন চেক চুরি করা হয়েছে বা বাহক কুড়িয়ে পেয়েছে এমনটি প্রমাণিত হলে ব্যাংক চেকের টাকা প্রদান করবে না।

৯. হিসাব নম্বর ঃ ব্যাংকে উপস্থাপিত চেকে যে হিসাব নম্বর আছে তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

১০. আদালতের নিষেধাজ্ঞা ঃ কোন চেকের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আদালতের কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা থাকলে চেকের টাকা প্রদান করা যাবে না।

১১. আদেষ্টার মৃত্যু বা দেউলিয়াপনা ঃ আমানতকারীর মৃত্যুমুখে পতিত হলে বা তিনি দেউলিয়া বা পাগল ঘোষিত হলে চেকের টাকা প্রদান করা যাবে না।

১২. আদেষ্টার নিষেধাজ্ঞা ঃ চেক প্রস্তুতকারক কোন কারণে কোন চেকের টাকা পরিশোধ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকলে উক্ত চেকের টাকা পরিশোধ করা যাবে না।

১৩. সন্দেহযুক্ত চেক ঃ চেকের টাকা পরিশোধ করার পূর্বে চেকে কোন প্রকার সন্দেহ আছে কিনা তা নিশ্চিত করার পরই শুধু টাকা পরিশোধ করতে হবে। কোনরূপ সন্দেহ থাকলে চেকের টাকা পরিশোধ করা সঙ্গত নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ