ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান ব্যবসায়িক পূর্বাভাস প্রদান, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যয় বিশ্লেষণ, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বা ক্ষতির কারণ চিহ্নিতকরণ, সংখ্যাত্মক ও গুণবাচক হিসাব তথ্যের বিশ্লেষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সর্বাধিকরণ বা ক্ষতি সর্বনিম্নকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান আর্থিক হিসাববিজ্ঞানের তথ্যসমূহকে বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে ব্যবস্থাপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে থাকে।
নিম্নে সংক্ষেপে ব্যবস্থাপনা হিসাব বিজ্ঞানের ভূমিকা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
১। আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই বাছাই ও পর্যালোচনাঃ
ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা যাচাই বাছাই করে ব্যবহারকারী ও বিনিয়োগকারীগণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা লাভজনক কি-না তার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও এরূপ আর্থিক রিপোর্ট ব্যবস্থাপনা বাজেট প্রণয়ন, পূর্বাভাস ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করে থাকেন।
২। বাজেট প্রস্তুত করণঃ
কোম্পানি সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্যে যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে চায় না। তাই ব্যবস্থাপনা হিসাববিদ প্রত্যেক বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক বাজেট প্রস্তুত করে থাকেন এবং পরে এগুলোর সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক বাজেট প্রস্তুত করে থাকেন।
৩। ভবিষ্যত পূর্বাভাস ও করণীয় স্থিরকরণঃ
বর্তমান উৎপাদন ও কার্যাবলির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য বিক্রয়ের পূর্বানুমান করা ব্যবস্থাপনার অতি প্রয়োজনীয় কাজ। ব্যবস্থাপনা হিসাববিদগণ বাজার পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যচক্রের কোন অবস্থানে আছে তা দেখেন । যদি মন্দা অবস্থায় থাকে তবে নতুন বাজার অনুসন্ধানসহ প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৪। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিঃ
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপকীয় তথ্যকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নগদ, স্থায়ী সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক বিবরণীর নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
৫। ব্যবস্থাপনার সমর্থনঃ
কোম্পানির বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে পর্যালোচনা করে হিসাববিদগণ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যত নগদ প্রবাহ ও মুনাফা বিবেচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হিসাববিভাগ এরূপ তথ্য দিয়ে উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করে।
৬। সহজ ব্যবস্থাপনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ
পরিসংখ্যানের বিভিন্ন গ্রাফ, চার্ট, ডায়াগ্রাম প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞানের তথ্যের উপস্থাপন করে থাকে। ফলে ব্যবস্থাপনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
৭। পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থাঃ
একটি প্রতিষ্ঠানের মূলধন অটুট রাখতে হলে চলতি মূল্যে সম্পত্তি ও দায়ের পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। সম্পত্তি ও দায় সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান ভূমিকা রাখে।
শেষ কথা, শিল্প, ব্যবসায়, বাণিজ্য ও নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড দ্বারা পরিবেষ্টিত সদা কর্মব্যস্ত এ আধুনিক বিশ্বের হিসাববিজ্ঞানের জগতে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান একটি আধুনিক ধারণা। ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞানের এমন এক কৌশল বা পদ্ধতি যা ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ ও দৈনন্দিন কার্য পরিচালনায় ব্যাপকভাবে সহায়তা করে থাকে।

0 মন্তব্যসমূহ