Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

চেকে টাকার অঙ্কের পর "মাত্র" লিখতে হয় কেন?

 টাকার পরিমাণ অংকে লেখার ক্ষেত্রে খুব সহজেই টাকার পরিমাণ হেরফের করা সহজ। কিন্তু টাকার পরিমাণ কথায় লেখা হলে তা সহজেই হেরফের করা যায়না। একটু কষ্টসাধ্য।  তাই, নিরাপত্তার স্বার্থে চেকে টাকার অংক দুই ভাবে লিখতে হয়- টাকার অংকে ও কথায়।

টাকার অংক যখন শব্দের সাহায্যে বা কথায় লেখা হয়, তাতে যাতে অসদুপায়ে কেউ টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি না করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই টাকার পরিমাণ লেখার শেষে "মাত্র" লেখার রেওয়াজ রয়েছে। ব্যাংক বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে, এটি একটি আর্থিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।

ধরুন, টাকার পরিমাণ ৫০,০০০। এক্ষেত্রে, ৫ এর পর যেসব শুন্য রয়েছে তার পর কিংবা শুন্যগুলোর মাঝে আরো একটি শুন্য বসিয়ে দিলে টাকার পরিমাণ বদলে যাবে। আবার কথায় যদি শুধু পঞ্চাশ হাজার লিখা হয়, তার পেছনে আরো টাকার পরিমাণ যোগ করার সুবিধা থেকে যায়। পঞ্চাশ হাজারের পেছনে লিখে দেওয়া যেতে পারে নয়শো নিরানব্বই। আবার পঞ্চাশ লাখের পেছনে লিখে দেওয়া যেতে পারে, নিরানব্বই হাজার নয়শো। কিন্তু, পঞ্চাশ হাজারের পেছনে মাত্র লিখলে, তার পেছনে আরো টাকার পরিমাণ লিখলে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে যে "মাত্র" লেখার পরে আবার টাকার পরিমাণ আসবে কেন? এ প্রশ্নটাই একজন ব্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। 

আরো সহজ করে বলা যায় কেউ টাকার পরিমাণ পঞ্চাশ লিখলে এবং শেষে মাত্র না লিখলে, পঞ্চাশ শব্দটির পিছনে হাজার বা লক্ষ বা কোটি শব্দগুলি যোগ করার সুবিধে থাকছে। সহজ কথায়: যাতে পরবর্তীতে টাকার অংক পরিবর্তন কষ্টকর হয়; যেমন আপনি যদি ১,০০০০০/- টাকা লিখেন তাহলে বাংলায় ১ কে ২ করতে বা শেষে আরেকটা বা দুটো শুন্য যোগ করতে কলমের ছোট্ট একটা দাগই যথেষ্ট; কিন্তু কথায় "এক" কে "দুই" বা "লক্ষ" কে "কোটি" করলে "ওভাররাইটিং" প্রকাশ্য হয়ে যায়; আর ব্যাংকের চেকে ওভাররাইটিং গ্রহনযোগ্য নয়।

মূলত; আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে, অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টাকে প্রতিহত করতেই এ ব্যবস্থা এবং টাকার যে কোনো পরিমাণের ক্ষেত্রেই পরিমাণ শব্দ লেখার পর, "মাত্র" প্রযোজ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ